কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে দিনব্যাপী ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। কর্মসূচির অংশ হিসাবে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কে জনগণের তীব্র ভোগান্তি লক্ষ্য করা গেছে। জরুরি কাজের কথা বলে ব্লকেড পার হতে চাওয়ায় আন্দোলনকারীদের সাথে তর্কে জড়াতে দেখা গেছে পথচারীদের। গতকাল বুধবার রাজধানীর বাংলামোটর, কারওয়ানবাজার, কারওয়ানবাজার রেল সিগন্যাল ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। আদালতের আদেশের পর সকাল দশটায় ব্লকেড কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা বারোটায় সড়কে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এতে ওই সময় চলাচল করা সকল গণপরিবহন আটকে যায়। এসময় অনেক পথচারী জরুরি কাজের কথা জানিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানান। তবে আন্দোলনকারীরা ব্লকেড কর্মসূচির প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের হেটে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এতে বাস যাত্রীরা নেমে পায়ে হেঁটে চলে গেলেও বিপত্তি দেখা দেয় মোটরসাইকেল ও রিকশা আরোহীদের। তাদের কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের সাথে তর্কে লিপ্ত হন। আব্দুল আজিম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, আমার বাসা সিগনালটার ওইপাশে। আমি যেতে চাচ্ছি কিন্তু তারা আমাকে যেতে দেবে না। আমি বারবার বলছি আমাকে শুধু মোড়টা পার হতে দেন। তারা সেটাও দেবে না। তারা বলছে বাইক নিয়ে যাওয়া যাবে না। আমি চাইলে পায়ে হেটে চলে যেতে পারি। রিকশা আরোহী দুই মেয়ে নিজেদের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে কারওয়ান বাজার সিগন্যাল পার হতে চাইলে তাদের আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা। তাদের যুক্তির বিরুদ্ধে কোটা বাতিলে ন্যায্য দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ না করে কেন ব্লকেড ভাঙতে চাচ্ছেন তা জানতে চায় আন্দোলনকারীরা। পরে ওই দুই নারী শিক্ষার্থী পায়ে হেটে রেল ক্রসিং পার হন। এসময় অ্যাম্বুলেন্সকে যেতে দেয়ার সুযোগে এক মোটরসাইকেল আরোহী ব্লকেড পার হয়ে যেতে চাইলে তার বাইকের চাবি আটকে দিতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, আমরা ন্যায্য দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করছি। হঠাৎ করেই আমরা সড়ক বন্ধ করেছি বিষয়টি এমন নয়। আমরা পূর্ব ঘোষণা দিয়েই কর্মসূচি পালন করছি। ফলে পথচারীদের উচিৎ আমাদের আন্দোলনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। তাছাড়া কারো যদি চিকিৎসাসহ জরুরি কাজ থাকে তাহলে তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। আমরা অ্যাম্বুলেন্সসহ রোগীবাহী বিভিন্ন গাড়ি এমনকি বয়স্ক ও শিশুদের পরিবহন করা রিকশাও মানবিক দিক বিবেচনা করে ছেড়ে দিচ্ছি। এ আন্দোলন শুধুমাত্র ছাত্রদের না। এটা সকলের অধিকারের আন্দোলন।
মেয়র তাপসের গাড়িবহর আটকে দিলেন শিক্ষার্থীরা : কোটাবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কঠোরভাবে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে বেশিরভাগ স্থানে সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ দিন সড়কে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের গাড়িবহরও আটকে দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরে রাজধানীর ফুলবাড়িয়ার বঙ্গমার্কেট এলাকায় মেয়র তাপসের গাড়িবহর আটকে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় মেয়রের গাড়িবহরে থাকা পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও তাদের আটকে রাখা হয়। ঢাবির অমর একুশে হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা চানখারপুল ও ফুলবাড়িয়া মোড়ে বেলা ১১টা থেকে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছি। দুপুরের দিকে মেয়র তাপসের গাড়ি এখানে এসে আটকে গেছে। আমরা তাদের অবরোধ ভেঙে পার হতে দেইনি। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলছে ও চলবে।
হেঁটে যেতে বাধ্য হলেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী : কোটা সংস্কার আন্দোলনে সড়ক অবরোধের মুখে পায়ে হেঁটে যেতে বাধ্য হয়েছেন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি। বুধবার চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় জরুরি সেবা পরিবহন বাদে অন্য সব যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। দুপুর পৌনে একটা নাগাদ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলির গাড়ি আটকে দেন শিক্ষার্থীরা। গাড়িটি বাংলামোটর থেকে মিন্টো রোডের দিকে যাচ্ছিল। গাড়ি আটকে দেয়ায় হেঁটে যেতে বাধ্য হয় এই যুব নেত্রী। পরে সাবেক এই ছাত্রলীগ নেত্রীকে মিন্টো রোডের দিকে চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি শারমিন সুলতানা লিলি।
ফাঁকা সড়কে ক্রিকেট খেলছেন শিক্ষার্থীরা : কোটাবিরোধী আন্দোলনে সারা দেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এক দফা, এক দাবি নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এসময় ফাঁকা সড়কে ক্রিকেট খেলতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। বুধবার রাজধানীর সাইন্সল্যাবে দেখা যায় এমন দৃশ্য। তবে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি চলবে। কঠোর রোদে যেন ঝিমিয়ে না পড়ি, তাই ক্রিকেট খেলায় মধ্য দিয়ে আনন্দ উপভোগ করছি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

যে কারণে তর্কে জড়াচ্ছেন আন্দোলনকারী ও পথচারীরা
- আপলোড সময় : ১১-০৭-২০২৪ ০২:২৪:১৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-০৭-২০২৪ ০২:২৪:১৩ অপরাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ